Ali 'Imran
Family of Imran
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ
১. আলিফ‑লাম‑মীম।
২. আল্লাহ (এমন এক সত্তা যে), তিনি ছাড়া কোন ইলাহ‑বিধাতা-বিধানদাতা-আইনদাতা নেই, (তিনি) চিরঞ্জীব ও অবিনশ্বর-সবকিছুর রক্ষাকর্তা।
৩. তোমার কাছে সঠিকভাবে এই মহাসত্য লিখিত আল‑কিতাবটি আল্লাহ্ নাজিল করেছেন; সত্যতা প্রমাণ করবে, যা তাদের দুই হাতের মধ্যে আছে। আর তিনি নাযিল করেছিলেন তাওরাত ও ইঞ্জীল। রেফারেন্স দেখতে ক্লিক করুন ➤ [ পূর্বের কিতাব: 2:75, 2:78-79, 2:101, 3:70-71, 3:78, 3:186-187, 5:13, 5:41, 6:91-92, 9:31 ]
৪. ইতিপূর্বে মানবজাতির হিদায়েত/পথ প্রদর্শনের জন্য; আর (এখন) ফুরকান/ সত্য‑মিথ্যার পার্থক্যকারী গ্রন্থ (কোরআন) নাযিল করেছেন। যারা আল্লাহর (কিতাবের) আয়াতসমূহ উপেক্ষা/অবহেলা/অস্বীকার/অবিশ্বাস করে তাদের জন্য কঠোর শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী।
৫. আল্লাহর কাছে জমিনের কিংবা আসমানের কোন কিছুই গোপন থাকে না; একথা সুনিশ্চিত।
৬. তিনিই তোমাদেরকে মায়ের পেটে যেভাবে ইচ্ছে আকৃতি দেন, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ/বিধাতা/বিধানদাতা নেই, তিনি প্রবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
৭. তিনিই তোমার উপর এমন কিতাব নাযিল করেছেন, যার কিছু হচ্ছে মুহকামাত (আদেশ ও নিষেধসূচক হুকুমের আয়াত), আর তা‑ই হচ্ছে আল‑কিতাবের জননী তথা মূল। আর অপর অংশ হচ্ছে, মুতাশাবিহাত (মূল অংশের সাথে মিলেমিশে থাকা সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াত)। সুতরাং, যাদের মনের মধ্যে কুটিলতা রয়েছে, তারাই মুতাশাবিহা অংশ নিয়ে মেতে উঠে (ফিতনা‑ফ্যাসাদ ও সেসবের তাফসির এবং শানে নুজুলের) খোঁজে। অথচ সেসবের বিবরণ কেবলমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। যারা সত্যিকার জ্ঞানে সুগভীর তারা বলে, আমরা এসবের সাথে বিশ্বাস স্থাপন করে নিয়েছি। সত্য সবই আমাদের রবের কাছ থেকে এসেছে। উপদেশ শুধু তারাই গ্রহণ করে, যারা বিবেকবুদ্ধি‑সম্পন্ন জ্ঞানবান‑উলুল আলবাব। রেফারেন্স দেখতে ক্লিক করুন ➤ [ মুতাশাবিহা আয়াত: 11:1, 39:23, 2:25, 6:99, 141, 41:53, 47:20, 74:31; সুষ্পষ্ট আয়াত: 2:118, 187, 219, 221, 242, 266, 3:103, 118, 5:75, 89, 6:105, 24:18, 58, 59, 61, 57:17 ]
৮. (তারা বলে,) “হে আমাদের রব! হিদায়াত/সৎ পথ প্রদর্শনের পরে তুমি আমাদের অন্তরগুলোকে বক্র করে দিও না এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান কর। নিশ্চয়ই তুমি মহান দাতা।
৯. ‘হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি সমগ্র মানবজাতিকে একদিন (হাশরের মাঠে) একত্রে সমবেত করবেন, যেদিনের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই ; নিশ্চয়ই আল্লাহ্ ওয়াদা ভঙ্গ করেন না।”
১০. যারা (আয়াতসমূহ) উপেক্ষা/অবহেলা/অস্বীকার/অবিশ্বাস/গোপন করে তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান‑সন্ততি আল্লাহর সামনে তাদের কোনই কাজে আসবে না। আর তারাই হবে দোযখের জ্বালানি/জাহান্নামের ইন্ধন।
১১. (তাদের আচরণ) দেশের ক্ষমতাশীল দল/ফেরাউনের দল ও তাদের পূর্ববর্তীদের আচরণের মত; তারা আমার আয়াত/নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলেছিল। তখন আল্লাহ তাদেরকে তাদের পাপের কারণেই পাকড়াও করেছিলেন (শাস্তি দিয়েছিলেন)। আর আল্লাহ্ শাস্তি দানে অত্যন্ত কঠোর।
১২. তুমি বলো! তোমরা যারা আয়াত উপেক্ষা/অবহেলা/অস্বীকার/গোপন করে যাচ্ছ, শীঘ্রই পরাজিত হবে এবং জাহান্নামের দিকে তোমাদেরকে একত্র করা হবে। আর ওটা কতইনা নিকৃষ্ট আবাসস্থল’!
১৩. (যুদ্ধক্ষেত্রে) সম্মুখীন হওয়া দুটো দলের মধ্যে অবশ্যই তোমাদের জন্য একটি আয়াতের নিদর্শন রয়েছে। একটি দল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করছিল আর অন্যটি ছিল কাফেরদের দল, যারা তাদেরকে (ঈমানদারদেরকে) চোখের দেখায় তাদের (নিজেদের) দ্বিগুণ দেখছিল। আর আল্লাহ নিজ সাহায্য দ্বারা যাকে চান শক্তিশালী করেন। নিশ্চয়ই ঐ ঘটনার মধ্যে দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।
১৪. মানুষের জন্য সুশোভিত করা হয়েছে নারী, সন্তান‑সন্ততি, স্বর্ণ‑রৌপ্যের অঢেল সম্পদ, বাছাই করা ঘোড়া, পালিত পশু এবং শস্যক্ষেত্র, এগুলো দুনিয়ার জীবনের ভোগসামগ্রী। আর আল্লাহ, তাঁর নিকট রয়েছে উত্তম আশ্রয়/প্রত্যাবর্তনস্থল।
১৫. বল, ‘আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়েও দারুন উৎকৃষ্টতর কোন কিছুর সংবাদ দেব? যারা মুত্তাকী হবে তাদের জন্য তাদের রবের নিকট এমন জান্নাত রয়েছে, যার পাদদেশে ঝর্ণাধারা/ নহর প্রবাহিত হয়; তারা সেখানে অনন্তকাল থাকবে। আরো রয়েছে পবিত্র সঙ্গিগণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি। আল্লাহ বান্দাদের সবকিছু দেখেন।”
১৬. যারা বলে, “হে আমাদের রব! আমরা তো ঈমান এনেছি, তাই আমাদের পাপগুলো মাফ করে দাও এবং আমাদেরকে দোযখের শাস্তি থেকে রক্ষা কর।”
১৭. তারাই ধৈর্যধারণকারী, সত্যবাদী, (আল্লাহর আদেশ নিষেধের প্রতি) বিনীত/অনুগত, (আল্লাহর দেখানো পথে) ব্যয়কারী ও শেষ‑রাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী।
১৮. আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ/বিধাতা/বিধানদাতা/আইনদাতা নেই; ফেরেশতারা ও ন্যায়নীতিতে প্রতিষ্ঠিত জ্ঞানী ব্যক্তিরাও (একই সাক্ষ্য দেয়); তিনি ছাড়া সত্যিকার কোন ইলাহ/বিধানদাতা নেই, তিনি মহাপরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।
১৯. নিশ্চয়ই আত্মসমর্পণ/শান্তিময়তাই আল্লাহ্র নিকট একমাত্র দ্বীন ; আর যাদেরকেই কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরই তারা জেনেশুনে শুধু নিজেদের মধ্যে জিদ ও হিংসা/বিদ্বেষবশত মতবিরোধ করেছে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর আয়াত সমূহ উপেক্ষা/অবহেলা/অস্বীকার/গোপন করে, (সে জেনে নিক) নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
২০. যদি তারা তোমার সাথে বিতর্ক করে তাহলে তুমি বলবে, “আমি আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করে/মুসলিম হয়েছি, আর আমার অনুসারীরাও (তাই করেছে)।” কিতাবধারী ও কিতাবহীন উম্মীদের বল, “তোমরা কি আত্মসমর্পণ করেছো?” যদি তারাও আত্মসমর্পণ করে তাহলে তারা হেদায়েত পাবে; আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়/অস্বীকৃতি জানায় তাহলে (মনে রাখবে,) তোমার দায়িত্ব কেবল (আল্লাহর বার্তা কুরআন) পৌঁছে দেওয়া। আল্লাহ বান্দাদের সবকিছু দেখেন।
২১. নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ উপেক্ষা/অবহেলা/অস্বীকার/গোপন করে এবং অন্যায়ভাবে নবীদেরকে হত্যা করে, আর মানুষের মধ্য থেকে যারা ইনসাফ/ন্যায়-পরায়ণতার নির্দেশ দেয় তাদেরকে হত্যা করে, তুমি তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব/শাস্তির সুসংবাদ দাও।
২২. এরাই সেই লোক যাদের সকল কাজ‑কর্ম/পরিশ্রম/আমল দুনিয়া ও আখিরাতে নিষ্ফল‑ব্যর্থ হবে এবং তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই।
২৩. তুমি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করনি? যাদেরকে আল‑কিতাব থেকে কিছু অংশ দেওয়া হয়েছে, যা তাদেরকে আল্লাহর কিতাবটির দিকে আহবান জানাচ্ছে, যেন তাদের মধ্যে মীমাংসা করা যায়। কিন্তু তাদের একটি দল মুখ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছে (লাহুয়াল হাদিস, ইজমা, কিয়াস, তাফসীর ও ফেকাহর কিতাবের) দিকে।
২৪. এর কারণ হল, তারা বলে, ‘গুটি কয়েক দিন ছাড়া (দোযখের) আগুন আমাদেরকে কখনই স্পর্শ করবে না’। আর তারা যা মিথ্যা (লাহুয়াল হাদীস) রচনা করত, তা তাদেরকে তাদের দ্বীনের ব্যাপারে ধোঁকায় ফেলে রেখেছে।
২৫. সুতরাং (সেদিন) কি অবস্থা হবে? যেদিন আমি তাদেরকে একত্র করব যাতে কোন সন্দেহ নেই আর (সেদিন) যে যা উপার্জন করেছে প্রত্যেককে তা পুরোপুরি দেয়া হবে এবং (প্রতিদান প্রদানে) কারো প্রতি জুলুম/অবিচার করা হবে না ?
২৬. বল, ‘হে আল্লাহ, সকল রাজত্বের মালিক, আপনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন, আর যার থেকে ইচ্ছা রাজত্ব কেড়ে নেন এবং আপনি যাকে ইচ্ছা সম্মান দান করেন। আর যাকে ইচ্ছা অপমানিত/লাঞ্ছিত করেন, আপনার হাতেই সব রকম কল্যাণ। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
২৭. ‘আপনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান। আর মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন। আর যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিজিক দান করেন’।
২৮. মুমিনরা মুমিনদের ছাড়া আয়াত উপেক্ষাকারী/অবহেলাকারী/অস্বীকারকারী/গোপনকারীদের আউলিয়া/অভিভাবক বানাবে না। আর যে কেউ এরূপ করবে তার সাথে আল্লাহ্র কোন সম্পর্ক নেই/থাকবেনা; তবে ব্যতিক্রম হল যদি তোমরা তাদের যুলম হতে আত্মরক্ষার জন্য সতর্কতা/সাবধানতা অবলম্বন কর। আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের সম্পর্কে (তাঁর শাস্তি সম্পর্কে) সতর্ক করে দিচ্ছেন। আর তাঁর কাছেই (তোমাদের সবাইকে) ফিরে যেতে হবে।
২৯. তুমি বলে দাও, “তোমরা তোমাদের মনের কথা গোপন করো কিংবা প্রকাশ করো আল্লাহ তা জানেন। আর আসমান সমূহে যা কিছু আছে ও যমীনে যা আছে, তাও তিনি জানেন। আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান’।
৩০. যে দিন প্রত্যেক নফস/আত্মা যা কিছু ভালো/নেক/উত্তম কাজ/কর্ম/আমল করেছে এবং যা কিছু খারাপ/বদ/মন্দ কাজ/কর্ম/আমল করেছে তা দেখতে পাবে; তখন সেই নফস কামনা করবে, যদি মন্দ কাজ ও তার মধ্যে বহুদূর ব্যবধান হত! আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের সম্পর্কে (শাস্তি সম্পর্কে) সতর্ক করে দিচ্ছেন। আর আল্লাহ (তাঁর) বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল।
৩১. তুমি বলে দাও,‘ যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমার (ওপর নাজিল হওয়া কুরআনের) অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহও তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’।
৩২. বল, ‘তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগত হও’। তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ (আয়াত উপেক্ষাকারী/অবহেলাকারী/অস্বীকারকারী/গোপনকারী) কাফিরদেরকে ভালবাসেন না।
৩৩. নিশ্চয়ই আল্লাহ আদম ‚নূহ, ইবরাহীমের পরিবার ও ইমরানের পরিবারকে সারা বিশ্ববাসীর ওপরে মনোনীত করেছেন।
৩৪. তারা একে অন্যের বংশধর ছিল। আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সবকিছু জানেন।
৩৫. যখন ইমরানের স্ত্রী বলেছিল,‘ হে আমার রব,আমার পেটে যে সন্তান রয়েছে তাকে আমি খালেসভাবে আপনার জন্য মানত করলাম। অতএব, আপনি আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছু শোনেন, সবকিছু জানেন’।
৩৬. তারপর সে যখন তাকে প্রসব করল তখন বলল, “হে আমার রব! আমি তো কন্যা প্রসব করেছি,” —সে যা প্রসব করেছে তা তো আল্লাহই ভাল জানেন,— “পুরুষ তো নারীর মত নয়, আমি তার নাম রেখেছি মরিয়ম, আর আমি তাকে ও তার সন্তান‑সন্ততিকে অভিশপ্ত শয়তানের প্রভাব থেকে (রক্ষার জন্য) তোমার হেফাজতে দিচ্ছি।”
৩৭. তারপর তার রব তাকে ভালভাবেই কবুল করলেন এবং তাকে ভালভাবে বড় করে তুললেন। তিনি তাকে জাকারিয়্যার তত্ত্বাবধানে রেখেছিলেন। যখনই জাকারিয়্যা তাকে দেখতে (তার) কক্ষে প্রবেশ করত তখনই তার কাছে খাদ্যসামগ্রী দেখতে পেত। সে তাকে বলত, “মরিয়ম! এগুলো তুমি কোথা থেকে পেলে?” সে বলত, “এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে (এসেছে)।” নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে চান বিনা হিসাবে রিযিক দান করেন।
৩৮. সেখানে জাকারিয়্যা তার রবকে ডাকে/দোয়া করে। সে বলে, “হে আমার রব! আমাকে আপনার পক্ষ থেকে উত্তম/ভাল/নেক সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি দোয়া/ডাক শোনেন।
৩৯. অতঃপর ফেরেশতারা তাকে ডেকে বলল, সে যখন তার খাস কামড়ায় সংযোগ সাধনে রত ছিলো, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে ইয়াহইয়া/জন সম্পর্কে সুসংবাদ দিচ্ছেন, যে হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে কালেমার সত্যায়নকারী, নেতা‚ ভোগ আসক্তিমুক্ত এবং সংশোধিতদের অন্তর্ভুক্ত একজন নবী’।
৪০. সে (যাকারিয়া) বলল, ‘হে আমার রব, কীভাবে আমার ছেলে হবে? আমি তো বুড়ো হয়ে গেছি, আর আমার স্ত্রীও যে বন্ধ্যা (সে কোনো সন্তান প্রসব করেনি)। তিনি বললেন, ‘এভাবেই (সমাজে যেভাবে হয়) আল্লাহ যা ইচ্ছা তা করেন’।
৪১. সে বলল, হে আমার রব! আমাকে কোনো নিদর্শন বলে দিবেন? আল্লাহ্ বলেন, তুমি তিনদিন লোকজনের সাথে কথা বলবে না, শুধু ইশারা/রমজান ব্যতীত, এটিই নিদর্শন। তোমার রবের জিকির/মূল থিম/স্মরণ খুব বেশি পরিমাণ করতে থাকবে; সকাল ও সন্ধ্যাবেলা বেশি বেশি রবের পথে সংগ্রাম সাধনা ব্যস্ততায় থাকবে।
৪২. আর যখন ফেরেশতারা (মরিয়মকে) বলেছিল, “হে মরিয়ম! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে মনোনীত করেছেন, তোমাকে পবিত্র করেছেন এবং সারা পৃথিবীর নারীদের মধ্য থেকে তোমাকে বাছাই/মনোনীত করেছেন।
৪৩. ‘হে মারইয়াম, তোমার রবের (আদেশ‑নিষেধ পালনের ক্ষেত্রে) যত্নবান হও, পরম আনুগত্যশীল হও, এবং বিনয়ীদের সাথে বিনীত হও। রেফারেন্স ➤ ( সিজদা: বশ্যতাস্বীকার, মান্যতা, মেনে নেয়া, পরম আনুগত্য স্বীকার, Yield ) ( রুকু = বিনয়, ভদ্রতা, নম্রতা )
৪৪. এ হচ্ছে একটি অন্যতম গায়েবী সংবাদ যা আমি তোমাকে ওহীর মাধ্যমে জানাচ্ছি। তাদের মধ্যে কে মরিয়মের দায়িত্ব নেবে তা ঠিক করার জন্য তারা যখন তাদের (লটারির) কলম নিক্ষেপ করছিল তখন তো তুমি তাদের কাছে ছিলে না। তেমনি তারা যখন (বিষয়টি নিয়ে) ঝগড়া করছিল তখনও তুমি তাদের কাছে ছিলে না।
৪৫. (স্মরণ করো) যখন ফেরেশতারা বলেছিল, “হে মরিয়ম! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে একটি কালেমার সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম মসীহ ঈসা ইবনে মারইয়াম, যে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত এবং (আল্লাহর) ঘনিষ্ঠ/নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের অন্যতম।
৪৬. সে লোকেদের সাথে মেহেদী/দোলনা থাকা অবস্থায় এবং পরিণত বয়সে মানুষের সাথে কথা বলবে এবং সংশোধিত/সংস্কৃত/পরিশীলিত/পরিশোধিত/পরিমার্জিত/সুধারিত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”
৪৭. মারইয়াম বলল, ‘হে আমার রব, কিভাবে আমার সন্তান হবে? অথচ কোন মানুষ আমাকে স্পর্শ করেনি’! আল্লাহ বললেন, ‘এভাবেই (হবে)।’ আল্লাহ (যেভাবে) যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যখন কোন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাকে শুধু বলেন, ‘হও’। আর অমনি তা হয়ে যায়।”
৪৮. ‘আর তিনি তাকে কিতাব, হিকমাত, তাওরাত ও ইনজীল শিক্ষা দেবেন’।
৪৯. এবং (তাকে) বনী ইসরাঈলের নিকট একজন রসূল হিসেবে (পাঠাবেন)। (সে তাদেরকে বলবে,) “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কাছে তোমাদের রবের নিকট থেকে নিদর্শন নিয়ে এসেছি। (তা এই যে,) আমি তোমাদের জন্য কাদামাটি দিয়ে পাখির আকৃতি বানাব, তারপর আমি তাতে ফুঁক দেব। ফলে আল্লাহর হুকুমে সেটি পাখি হয়ে যাবে। আর আমি আল্লাহর হুকুমে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ রুগীকে সুস্থ করব এবং মৃতকে জীবিত করব। আর তোমরা যা খাও এবং তোমাদের ঘরে যা জমা করে রাখ তা আমি তোমাদেরকে জানিয়ে দেব। নিশ্চয়ই এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন/মোজেজা/আয়াত রয়েছে, যদি তোমরা মুমিন হও’।
৫০. আর (আমি এসেছি) আমার সামনে তাওরাতের যা রয়েছে তার সত্যায়নকারীরূপে আর যেসব জিনিসকে তোমাদের মধ্যকার (ফতোয়াবাজ) লোকেরা হারাম করে রেখেছে, সেসব হালাল বলার জন্য তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে আয়াত নিয়ে এসেছি। সুতরাং তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে সতর্ক/সাবথান হও এবং আমার অনুগত হও।
৫১. নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদেরও রব; তাই তোমরা তাঁর ইবাদত কর। এটাই সিরাতুল মুস্তাকিম‑সরল পথ।”
৫২. কিন্তু ঈসা যখন তাদের মধ্যে আয়াতসমূহ উপেক্ষা/অবহেলা/অস্বীকার উপলব্ধি করল, তখন বলল, “কেউ কি আছে যে আল্লাহর পথে আমার সাহায্যকারী হবে? সঙ্গী/হাওয়ারীগণ বলল, ‘আমরা আল্লাহর (পথে) সাহায্যকারী। আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি। আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা আত্মসমর্পণকারী/মুসলিম”।
৫৩. (তারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বলে,) হে আমাদের রব, আপনি যা নাযিল করেছেন তার প্রতি আমরা ঈমান এনেছি এবং আমরা রাসূলের অনুসরণ করেছি। অতএব, আমাদেরকে শহীদ/সাক্ষ্যদাতাদের তালিকাভুক্ত করুন’।
৫৪. আর তারা ষড়যন্ত্র করেছিল আর আল্লাহও (তাদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে পাল্টা) কৌশল করেছিলেন। আল্লাহ হচ্ছেন উত্তম/শ্রেষ্ঠতম কৌশলকারী।
৫৫. আল্লাহ্ যখন ‘ঈসাকে বলেছিলেন, হে ঈসা! নিশ্চয়ই আমি তোমাকে ওফাত (মৃত্যু) দেব। আর তোমাকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করব এবং সতর্কবাণী উপেক্ষাকারী/অবহেলাকারী/অস্বীকারকারী/গোপনকারী/কাফিরদের থেকে আমি তোমাকে পবিত্র করব; যারা তোমার অনুসরণ করবে, তাদেরকে আমি কিয়ামত পর্যন্ত কাফিরদের উপর বিজয়ী রাখব। আমারই কাছে তোমাদের সবাইকে ফিরে আসতে হবে, তখন আমিই ফয়সালা করব, যেসব বিষয় নিয়ে তোমরা মতবিরোধ/ঝগড়া করতে।
৫৬. তারপর যারা অমান্য করেছে, তাদেরকে দুনিয়া এবং আখিরাতে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে, তাদের সাহায্যকারী কেউ থাকবে না।
৫৭. আর যারা ঈমান আনবে ও কর্মকে সংশোধন করবে/সংশোধিত/সংস্কৃত/পরিশীলিত/পরিশোধিত/পরিমার্জিত কাজ করবে, তিনি তাদেরকে পরিপূর্ণ প্রতিদান দেবেন। আর আল্লাহ যালিমদেরকে ভালবাসেন না।
৫৮. এই তো পড়ে শোনাচ্ছি তোমার প্রতি, হিকমতপূর্ণ/প্রজ্ঞাময় মূল থিমের আয়াতসমূহ থেকে।
৫৯. নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মতই। তিনি তাকে (অর্থাৎ তার আকৃতিটি) মাটি থেকে তৈরী করেছিলেন, তারপর বলেছিলেন, “হও”, ফলে সে হয়ে গেল।
৬০. (প্রকৃত মহা) সত্য তোমার রবের পক্ষ থেকেই (এসেছে); সুতরাং তুমি সন্দেহবাদী/সংশয়বাদী/আধানাস্তিক দের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
৬১. যে কেউ তোমার সাথে এ (কুরআনের) ব্যাপারে বিতর্ক করবে — সঠিক জ্ঞান তোমার কাছে পোঁছানোর পরেও; তাহলে তুমি বলবে, আসো আমরা নিজেদের সন্তানদেরকে ডাকি, আর তোমরাও তোমাদের সন্তানদেরকে ডাকো, আমাদের নারীদেরকে ও তোমাদের নারীদেরকে আর আমরা নিজেরাও আসবো এবং তোমরা সবাই আসবে, এরপর (সমস্ত দলিল‑প্রমাণ একে‑অপরের সম্মুখে রেখে) আমরা বিনীত ভাবে প্রার্থনা করে বলি মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহর লানত/অভিশাপ।
৬২. নিশ্চয়ই এটা প্রকৃত সত্য বিবরণ। আর আল্লাহ ছাড়া কোন সত্যিকারের বিধানদাতা/বিধাতা/আইনদাতা/ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ, তিনিই হলেন পরম পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
৬৩. এর পরেও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে (জেনে রাখ) নিশ্চয়ই আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের সম্পর্কে ভালো করেই জানেন।
৬৪. বলো, হে কিতাবধারী (ইহুদী, খ্রীষ্টান, শিয়া, সুন্নিগণ) তোমরা এমন একটা বাণীর দিকে আস, যা আমাদের ও তোমাদের মাঝে সমান যে, আমরা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করব না আর তাঁর (কিতাবের) সাথে কোন (তালমুদ, মিসনা, মিদ্রাস, জোহার, সিদ্দুর, নবীইম, কেতুবীম, গেমারা, রোমান মিছাল, লিতুরগি, ছুম্মা থিলোযিকা, কনফেশনস, ইমিটেশন, জি ঈসা, কানুন, ল, ফিলোকালিয়া, বুখারি, তিরমিজি, নাসাই, মাজাহ, কাসির, তাবারি, হেদায়া, বেদায়া, মাবসুত, উম, কাফি, ইস্তিবসার, বালাগা, মাকাসিব, উসকা, ইতিকাদা, কুম্মি, আয়াশি, উলিয়াত, রিসালাত আমালিয়াত) কে শরীক করবো না। আল্লাহ্ ছাড়া কাউকে রব হিসেবে গ্রহণ করব না। তারপরও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে তোমরা বল, তোমরা এ বিষয়ে সাক্ষী থাক যে, আমরা আত্মসমর্পণকারী/মুসলিম’।
৬৫. হে কিতাবীরা! তোমরা ইবরাহীমের ব্যাপারে কেন বিতর্ক করছ? অথচ তাওরাত ও ইনজীল তার (মৃত্যুর) পরে নাযিল করা হয়েছিল। তোমরা কি (বোকা) বোঝ না?
৬৬. শোন, তোমরাই তো (ইতিপূর্বে) এমন বিষয় নিয়ে বিতর্ক করেছো যে বিষয়ে তোমাদের কিছু জ্ঞান আছে। কিন্তু (এখন) যে বিষয়ে তোমাদের কোন জ্ঞান নেই তা নিয়ে কেন বিতর্ক করছ? (আসলে) আল্লাহ সব জানেন, তোমরা জান না।
৬৭. ইবরাহীম ইহূদীও ছিল না, (খ্রিষ্টান) নাসারাও ছিল না; বরং সে ছিল একরোখা (শুধু আল্লাহমুখী) আত্মসমর্পণকারী/মুসলিম। আর সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
৬৮. নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে তারাই ইব্রাহীমের সবচেয়ে (ঘনিষ্ঠতম/আপনজন) হওয়ায় এগিয়ে যারা তার অনুসরণ করেছে, এবং এ নবী ও যারা ঈমান এনেছে; আর আল্লাহ্ মুমিনদের অভিভাবক।
৬৯. কিতাবীদের একটি দল তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট/বিভ্রান্ত করতে চায় (লাহুয়াল হাদীস দিয়ে)। আসলে তারা কেবল নিজেদেরকেই পথভ্রষ্ট/বিভ্রান্ত করছে, কিন্তু তারা (তা) উপলব্ধি করতে পারে না।
৭০. হে কিতাবীরা! তোমরা কেন আল্লাহর আয়াতসমূহ উপেক্ষা/অবহেলা/অস্বীকার/অমান্য/গোপন করছ? অথচ তোমরাই (প্রকাশ্যে তার সত্যতার) সাক্ষ্য দিচ্ছ।
৭১. হে কিতাবীরা, তোমরা কেন সত্য/বিশুদ্ধ/সহিহ (আহসানাল হাদিসকে) মিথ্যা (লাহুয়াল হাদীসের) সাথে মিশ্রিত করছ এবং জেনেশুনে সত্য গোপন করছো?
৭২. কিতাবধারীদের একদল (তাদের অনুসারীদেরকে) বলেছিল, “ঈমানদারদের কাছে যা নাযিল করা হয়েছে তাতে দিনের বেলা ঈমান আনার (অভিনয় করো), দিনের শেষে মুখ ফিরিয়ে অমান্য/অস্বীকার/প্রত্যাখ্যান করো। হয়তো তারা (ইসলাম ত্যাগ করে) ফিরে আসবে।
৭৩. আর তোমাদের দ্বীনের অনুসরণ করে এমন লোক ছাড়া (অন্য কাউকে) বিশ্বাস করবে না।” তুমি বল, “নিশ্চয়ই সত্যিকারের হিদায়েতের (পথ) হচ্ছে আল্লাহর (নির্দেশিত) হিদায়েতের পথ। (আরও বলো)” তোমাদের (যেই হুদা/হেদায়েত) দেওয়া হয়েছে তেমনটি অন্য কাউকেও দেওয়া হতে পারে; অন্যথায় তারা তোমাদের রবের সামনে তোমাদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হবে।” বল, “ইজ্জত/সম্মান/মর্যাদা/অনুগ্রহ তো আল্লাহরই হাতে। তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর আল্লাহ্ প্রাচুর্যময়, মহাজ্ঞানী।”
৭৪. তিনি যাকে চান, তাঁর রহমত দ্বারা একান্ত/খাস করে বেছে নেন। আর আল্লাহ মহান, ইজ্জত/সম্মান/মর্যাদা/অনুগ্রহের অধিকারী।
৭৫. কিতাবীদের মধ্যে এমন লোক আছে যার কাছে তুমি বিপুল ধন-সম্পদ আমানত রাখলেও সে তা তোমাকে ফেরত দেবে। আবার তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে যার কাছে তুমি একটি টাকা (মুদ্রা) আমানত রাখলেও সে তা তোমাকে ফেরত দেবে না, যদি না তুমি তার কাছে দাঁড়িয়ে থাক। এটা এই কারণে যে, তারা বলেছে, “বিধর্মী জেন্টাইল (অ‑কিতাবীদের) ব্যাপারে আমাদের উপর কোন অভিযোগ নেই (তাদের সম্পদ আত্মসাৎ করায় আমাদের কোন দোষ নেই)।” তারা আল্লাহ সম্পর্কে জেনেশুনে মিথ্যা বলে।
৭৬. হ্যাঁ, অবশ্যই যে নিজ ওয়াদা/অঙ্গীকার পূরণ করবে এবং সতর্কতা/সাবধানতা অবলম্বন করবে অবশ্যই আল্লাহ এরকম মুত্তাকীদের ভালবাসেন।
৭৭. যারা আল্লাহর (সাথে করা) ওয়াদা ও নিজেদের শপথকে সামান্য তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে দেয় তাদের জন্য আখিরাতে কোন অংশ নেই। কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে তাকাবেন না। তিনি তাদেরকে যাকাত বা পরিশুদ্ধও করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
৭৮. আর তাদের মধ্যে একদল লোক আছে যারা (আল্লাহর) কিতাব পড়ার সময় জিহবা দিয়ে এমনভাবে (সুর লহরী দিয়ে সুমধুরভাবে) পড়ে, যাতে তোমরা তাকে (মানবরচিত কিতাব লাহুয়াল হাদীসকে) কিতাবের অংশ মনে করো, অথচ তা কিতাবের অংশ নয়। আর তারা বলে, “এটা (হাদিস, তাফসির ও ফিকাহ) আল্লাহর পক্ষ থেকে (গায়রে মাতলু ওহী হিসেবে এসেছে)”, অথচ তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসেনি। (আফসোস) এভাবেই তারা জেনেশুনে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলে।
৭৯. কোন মানব সন্তানের পক্ষে এটা সম্ভব নয় যে, আল্লাহ তাকে কিতাব, হিতমাত ও নবুওয়াত দান করেন, তারপর সে লোকেদেরকে বলবে, ‘তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে আমার (উম্মত) বান্দা (আশেকে রাসুল) হয়ে যাও, বরং (সে বলবে), ‘তোমরা আল্লাহ্ওয়ালা/রাব্বানী/আশেকে মাওলা হয়ে যাও; কারণ তোমরাই তো কিতাব শিক্ষা দিতে ও (নিজেরা তা) পাঠ করতে।
৮০. আর তিনি আদেশ করেননা যে, তোমরা ফেরেশতা ও নাবীগণকে বিধানদাতা/প্রভু রূপে গ্রহণ কর; তোমরা আত্মসমর্পণকারী/মুসলিম হবার পর তিনি কি তোমাদেরকে পুনরায় কুফরীতে ফিরে যাবার আদেশ দিতে পারেন?
৮১. যখন আল্লাহ নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন (আর বলেছিলেন), “আমি তোমাদেরকে যে কিতাব ও হিকমাত দান করেছি তা গ্রহণ কর। অতঃপর তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়নকারীরূপে একজন রসূল আসবে। তখন অবশ্যই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনবে এবং তাকে সাহায্য করবে।” তিনি বলেছিলেন, “তোমরা কি স্বীকার করলে এবং এ ব্যাপারে আমার প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করলে?” তারা বলেছিল, “স্বীকার করলাম।” তিনি বলেছিলেন, “তাহলে তোমরা সাক্ষী থেকো, আর আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী থাকলাম।”
৮২. এরপর যারা মুখ ফিরিয়ে নিবে, (অঙ্গীকার ভঙ্গ করবে) তারাই তো পাপিষ্ঠ/ফাসিক।
৮৩. তাহলে কি তারা আল্লাহর দ্বীন/জীবন বিধান বাদ দিয়ে অন্য (পীর, পাদ্রী, নবী রাসুল, ঠাকুর, মুজতাহিদ, দরবেশদের মাজহাব, সুন্নত ও তরিকার) জীবন বিধান খুজেঁ বেড়াচ্ছে? অথচ আসমান সমূহ ও যমীনের মধ্যে যা কিছু আছে তা তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণ করে/মুসলিম হয়েছে ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় এবং তাঁরই দিকে তাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে।
৮৪. বল, “আমরা আল্লাহর প্রতি; আমাদের ওপর যা নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি; ইবরাহীম, ঈসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তার বংশধরদের ওপর যা যা নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি এবং মূসা, ঈসা ও (অন্যান্য) নবীদেরকে তাদের (বিধানদাতা) রবের পক্ষ থেকে যা যা দেওয়া হয়েছে তার প্রতি ঈমান এনেছি। তাদের কারো মধ্যে আমরা পার্থক্য করি না। আর আমরা তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণকারী-মুসলিম।
৮৫. আর যে ব্যক্তি ইসলাম‑শান্তিময়তা-আত্মসমর্পণ ছাড়া অন্য কোন দ্বীন/জীবন আদর্শ চাইবে কক্ষনো তার থেকে সেই দ্বীন কবূল করা হবে না এবং আখেরাতে সে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
৮৬. যে লোকেরা ঈমান আনার পর, রসূলকে সত্য বলে সাক্ষ্য দেওয়ার পর এবং তাদের কাছে সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণ এসে যাবার পর (পুনরায়) কাফের হয়েছে তাদেরকে আল্লাহ কীভাবে হেদায়েত করবেন? আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।
৮৭. এরাই তারা যাদের প্রতিফল এই যে, তাদের প্রতি আল্লাহর, ফেরেশতাদের এবং সকল মানুষের লা’নত/অভিসম্পাত।
৮৮. যার মধ্যে তারা চিরকাল থাকবে। তাদের শাস্তি কমানো হবে না এবং (শাস্তি ভোগের ক্ষেত্রে) তাদেরকে অবকাশও দেওয়া হবে না।
৮৯. তবে যারা এর পরে তওবার মাধ্যমে ফিরে এসেছে, নিজেদেরকে সংশোধন করে নিয়েছে, তাদের কথা ভিন্ন। তখন নিশ্চয়ই আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
৯০. নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনার পর কুফরী করল, অতঃপর তাদের কুফরী বেড়েই চলল, তাদের তাওবাহ কক্ষনো কবুল করা হবে না এবং এ লোকেরাই পথভ্রষ্ট।
৯১. নিশ্চয়ই যারা কুফরী করে এবং সেই কাফির অবস্থায়ই মারা যায়, তাদের কেউ যদি মুক্তিপণস্বরূপ পুরো পৃথিবী পরিমাণ স্বর্ণও দেয় তার কাছ থেকে তা কক্ষণো গ্রহণ করা হবে না। এরাই তারা যাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি (নির্ধারিত) রয়েছে। আর তাদের কোন সাহায্যকারী নেই।
৯২. তোমরা যা ভালবাস তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো সওয়াব অর্জন করতে পারবে না। আর তোমরা যা কিছু ব্যয়/খরচ কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ সে সম্পর্কে খুব ভাল করে জানেন।
৯৩. তাওরাত নাযিল হওয়ার পূর্বে ইসরাঈল (ইয়াকূব) নিজের জন্য যে খাবার হারাম করেছিল তা ছাড়া বনী ইসরাঈলের জন্য সবরকম খাবারই হালাল ছিল। বল, “তোমরা যদি সত্যবাদী হও তাহলে তাওরাত নিয়ে এসো এবং তা পাঠ কর।”
৯৪. সুতরাং এরপরও যারা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বানিয়ে বলে তারা অবশ্যই যালিম।
৯৫. বল, “আল্লাহ সত্য বলেছেন, অতএব, তোমরা একনিষ্ঠ ভাবে ইবরাহীমের ধর্মাদর্শ/মিল্লাত অনুসরণ কর। সে মুশরিক ছিল না।”
৯৬. মানুষের জন্য প্রথম প্রতিষ্ঠানটি সুসজ্জিত হয়েছিলো নয়ন জলে/চোখের অশ্রুতে/বাক্কাতে বিশ্বজাহানের জন্য হেদায়েত ও মুবারক।
৯৭. এর মধ্যে রয়েছে ইবরাহীমের সুষ্পষ্ট উচ্চ মর্যাদার আয়াতসমূহ। যে এতে প্রবেশ করলো সে সতর্কবাণীর প্রতি মনোযোগী/ঈমানদার/প্রশান্ত/বিশ্বস্থ হলো এবং আল্লাহ (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে এই প্রতিষ্ঠানে মানুয়ের জন্য বিতর্ক/হাজ্জ করা সেই সব মানুষের কর্তব্য যারা (আর্থিক/মানসিক/বুদ্ধিবৃত্তিক) সামর্থ্য রাখে এবং যদি কেউ প্রত্যাখ্যান/অস্বীকার করে (তার জানা উচিত,) আল্লাহ বিশ্বজগতের প্রয়োজন থেকে মুক্ত।
৯৮. বল, “হে কিতাবধারীরা! তোমরা কেন আল্লাহর আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান/অস্বীকার/অবিশ্বাস/অমান্য করছ? অথচ তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ তার সাক্ষী।”
৯৯. বল, “হে (ইহুদী, নাসারা, সিয়া, সুন্নি) কিতাবধারীরা! যারা ঈমান এনেছে তোমরা কেন তাদেরকে আল্লাহর (কুরআনের) পথে বাধা দিচ্ছ? তোমরা তো সেখানে বাকা-বক্র পথই খুজে বেড়াচ্ছ। অথচ তোমরাই (তার সত্যতার) সাক্ষী। তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে বেখবর/গাফেল নন।”
১০০. হে ঈমানদারগণ! যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে (ইহুদী, নাসারা, সিয়া, সুন্নি), তোমরা যদি তাদের একটি দলের আনুগত্য কর, তারা তোমাদের ঈমানের পর তোমাদেরকে আল্লাহর আয়াত উপেক্ষাকারী/অবহেলাকারী/অস্বীকারকারী/গোপনকারী কাফির অবস্থায় ফিরিয়ে নেবে।
১০১. আর তোমরা কেমন করে কুফরী করতে পার যখন তোমাদেরকে আল্লাহর আয়াতসমূহ পড়ে শুনানো হচ্ছে এবং তোমাদের মাঝে তাঁর রসূলও মওজুদ আছেন ? যে ব্যক্তি আল্লাহকে সুদৃঢ়/শক্ত/কঠিনভাবে আঁকড়ে ধরবে (আল্লাহর নির্দেশ পালনে অনড় থাকবে), নিশ্চয়ই সে সিরাতুল মুস্তাকিম/সরল পথের দিকে পরিচালিত/হেদায়াতপ্রাপ্ত হবে।
১০২. হে সতর্কবাণীর প্রতি মনোযোগী/ঈমানদারগণ! তোমরা সত্যিকার অর্থে আল্লাহ সম্পর্কে সতর্ক/সাবধান/হুশিয়ার হও। আর তোমরা মুসলিম/পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণকারী না হয়ে মৃত্যু বরণ করনা।
১০৩. আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জু/রশি (কুরআনকে) শক্ত/দৃঢ়/কঠিন/মজবুতভাবে আকড়ে ধর, পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিয়ামতকে স্মরণ কর। যখন তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু, তারপর আল্লাহ তোমাদের অন্তরে প্রীতি/ভালবাসার সঞ্চার করেছেন। ফলে তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে গেলে। তোমরা এক আগুনের গর্তের পাশে অবস্থান করছিলে। তিনি তোমাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করেছেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ বয়ান করেন, যাতে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হও।
১০৪. আর তোমাদের মধ্যে এমন একদল থাকবে যারা মানুষকে কল্যাণের দিকে ডাকবে, ন্যায়সঙ্গত নির্দেশ দিবে, আর মন্দকাজ থেকে (নিজেকে ও অন্যদেরকে) বিরত রাখবে, আর ঐসব লোকেরাই সফলকাম। [২:১৪৩, ৩:১০৯, ২৩:১, ৬১:২‑৩]
১০৫. তোমরা তাদের মত হয়ো না যারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়েছিল তাদের কাছে সুস্পষ্ট দলিলপ্রমাণ আসার পরও বিভক্ত হয়ে মতবিরোধ করেছিল। আর তাদের জন্য রয়েছে কঠোর/মহাশাস্তি।
১০৬. একদিন কিছু লোকের চেহারা উজ্জ্বল হবে, আর কিছু লোকের চেহারা কালো মলিন হয়ে যাবে। আর যাদের চেহারা কালো হবে (তাদেরকে বলা হবে) ‘তোমরা কি ঈমান আনার পর কুফরী করেছিলে ? সুতরাং তোমরা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ কর। কারণ তোমরা আয়াত উপেক্ষা/অবহেলা/অস্বীকার/গোপন করতে’।
১০৭. যাদের চেহারা উজ্জ্বল হবে, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে আশ্রয় পাবে। সেখানে তারা অনন্তকাল/চিরকাল থাকবে।
১০৮. এগুলো আল্লাহর আয়াত যা তোমাকে সঠিকভাবে পাঠ করে শোনাচ্ছি। আল্লাহ বিশ্ববাসীর প্রতি অবিচার/জুলুম করতে চান না।
১০৯. আর আসমানসমূহ ও যমীনে যা রয়েছে, তা আল্লাহর জন্যই এবং আল্লাহর দিকেই সব কিছু ফিরে যাবে।
১১০. তোমরা মহৎ/সদাচারী/সদগুণসম্পন্ন/মঙ্গলময়/আদর্শ উম্মত মানবজাতির (সর্বাত্মক কল্যাণের) জন্য তোমরা বের হও। ন্যায়সঙ্গত/ইনসাফের পরামর্শ//সিদ্ধান্ত দাও, আর মন্দকাজ থেকে (নিজেকে ও অন্যদেরকে) বিরত রাখো, আর আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো। কিতাবধারীরা যদি ঈমান আনত তাহলে অবশ্যই তা তাদের জন্য কল্যাণকর হত। তাদের মধ্যে কিছু ঈমানদার আছে, তবে তাদের অধিকাংশই ফাসেক (পাপাচারী)। আমর= পরামর্শ/সিদ্ধান্ত ৭:১১০; ২৬:৩৫; ২৮:২০; ৬৫:৬; ৩০:৪; ২৮:৪৪; ২৭:৩৩; ১৯:২১,৩৫; ১৩:২০] [তানহাওন=বিরত রাখা ৭:১৬৫; ২৯:৪৫; ৭৯:৪০]
১১১. সামান্য কষ্ট দেয়া ছাড়া তারা তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে তবে তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে; তারপর তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।
১১২. আল্লাহর অনুকম্পা ও মানুষের আশ্রয় ছাড়া যেখানেই তারা অবস্থান করুক, সেখানেই তারা হয়েছে লাঞ্ছিত, তারা আল্লাহর গযবে পরিবেষ্টিত এবং তাদের ওপর দুরবস্থার ছাপ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা এজন্য যে, তারা আল্লাহর আয়াত সমূহের সাথে কুফরী করত এবং নাবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করত, এটা এজন্য যে, তারা (আল্লাহর) অবাধ্য হয়েছিল এবং সীমালংঘন করছিল।
১১৩. তারা সবাই একরকম নয়। কিতাবধারীদের মধ্যে (ন্যায়ের ওপর) অটল একদল মানুষ আছে, যারা রাতের বেলায় আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করে এবং পরম আনুগত্যের সাথে (আল্লাহর আদেশ নির্দেশ) মেনে নেয়।
১১৪. তারা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে এবং ন্যায়সঙ্গত/ইনসাফের পরামর্শ//সিদ্ধান্ত দেয়, আর মন্দকাজ থেকে (নিজেকে ও অন্যদেরকে) বিরত রাথে। এবং তারা কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতা করে। তারাই তো সংশোধনকারী লোকদের অন্তর্ভুক্ত।
১১৫. আর তারা যে সুন্দর/ভাল/মহৎ কাজ করে, তা কখনো অস্বীকার করা হবে না। আর আল্লাহ মুত্তাকীদের সম্পর্কে বেশ ভালোভাবে জানেন।
১১৬. নিশ্চয় যারা কুফরী করে, তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান‑সন্ততি আল্লাহর সামনে তাদের কোনই উপকারে আসবে না। তারা জাহান্নামের অধিবাসী (হবে)। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।
১১৭. তারা দুনিয়ার জীবনে যা ব্যয় করে তার উপমা : যেন কনকনে ঠাণ্ডা একটি বাতাস এমন একদল লোকের শস্যক্ষেতে আঘাত হেনে তা ধ্বংস করে দিয়েছে যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে। আল্লাহ তাদের প্রতি জুলুম করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করছে।
১১৮. হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের (ঈমানদারদের) ছাড়া অন্যদের কাছে গোপন তথ্য প্রকাশ করবে না। এরা তোমাদের ক্ষতি করতে চেষ্টার ত্রুটি করবে না। তোমরা যতবেশি কষ্ট পাবে, ততই তাদের আনন্দ হবে। তাদের মুখের কথায় শত্রুতা প্রকাশ পেয়েছে। আর তাদের মনে যা লুকিয়ে আছে তা তো আরো অনেক বেশী। তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ পরিষ্কার করে বর্ণনা করেছি। যেন তোমরা বুঝতে পার।
১১৯. শোন, তোমরাই তো তাদেরকে ভালবাস কিন্তু তারা তোমাদেরকে ভালবাসে না। আর তোমরা সব কিতাবের প্রতি ঈমান রাখ (কিন্তু তারা তা করে না) আর যখন তারা তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করে, তখন বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’। আর যখন তারা একান্তে মিলিত হয়, তোমাদের উপর রাগে আঙ্গুল কামড়ায়। বল, ‘তোমরা তোমাদের রাগ নিয়ে মর’ !নিশ্চয়ই আল্লাহ (মানুষের) মনের কথা ভালভাবে জানেন।”
১২০. যদি তোমাদেরকে কোন কল্যাণ স্পর্শ করে, তখন তাদের কষ্ট হয়। আর যদি তোমাদেরকে মন্দ স্পর্শ করে, তখন তারা তাতে খুশি হয়। (তবে) তোমরা যদি ধৈর্যধারণ করো ও সাবধান/সতর্ক থাকো, তাহলে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোনই ক্ষতি করতে পারবেনা। তারা যা করে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা পরিবেষ্টন করে রয়েছেন। ২:৪১]
১২১. যখন তুমি যুদ্ধের জন্য মুমিনদেরকে (তাদের) ঘাঁটিতে নিযুক্ত করতে সকালে ঘর থেকে বের হয়েছিলে। আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সবকিছু জানেন।
১২২. যখন তোমাদের মধ্যে দু’দলের সাহস হারাবার উপক্রম হয়েছিল অথচ আল্লাহ্ উভয়ের অভিভাবক ছিলেন। মু’মিনদের উচিত আল্লাহর উপর ভরসা করা।
১২৩. আর অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে বদরে সাহায্য করেছেন অথচ তোমরা ছিলে দুর্বল/হীনবল। অতএব তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে সতর্ক/সাবধান/হুশিয়ার হও, আশা করা যায়, তোমরা শোকরগুজার/ কৃতজ্ঞ হবে।
১২৪. যখন তুমি মুমিনদেরকে বলছিলে, ‘তোমাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের রব তোমাদেরকে তিন হাজার নাযিলকৃত ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করবেন’?
১২৫. অবশ্যই; যদি তোমরা ধৈর্যধারণ করো ও সতর্কতা অবলম্বন করো আর তারা হঠাৎ তোমাদের মুখোমুখি এসে যায়, তবে তোমাদের রব পাঁচ হাজার চিহ্নত ফেরেশতা দ্বারা তোমাদেরকে সাহায্য করবেন।
১২৬. এটা আল্লাহ কেবলমাত্র তোমাদের সুসংবাদের জন্য এবং তা দ্বারা তোমাদের মনকে-প্রশান্ত করার জন্য করেছেন, আর সাহায্য তো শুধু পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর কাছ থেকেই আসে।
১২৭. যাতে তিনি কাফিরদের একটি অংশকে নিশ্চিহ্ন করেন অথবা তাদেরকে লাঞ্ছিত করেন। যাতে তারা নিরাশ হয়ে ফিরে যায়।
১২৮. তিনি তাদের তাওবা কবুল করবেন বা তাদেরকে শাস্তি দেবেন–এ ব্যাপারে তোমার কিছুই করার নেই। কারণ নিশ্চয়ই তারা যালিম।
১২৯. আসমানসমূহে এবং যমীনে যা কিছুই আছে তার সব কিছুই আল্লাহরই, তিনি যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছে শাস্তি দেন। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
১৩০. হে ঈমানদারগণ ! তোমরা (শোষন করে/জুলুম করে) অতিরিক্ত অর্থ সম্পদ বা রিবা খাবে না বহুগুণ বৃদ্ধি করে (ঘুষ, সুদ, চাদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, সিন্ডিকেট, দ্রব্যমূল্য, ভাড়া বৃদ্ধি ইত্যাদি)। আর তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে সতর্ক‑সাবধান‑হুশিয়ার হও, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।
১৩১. আর তোমরা (জাহান্নামের) আগুন থেকে সতর্ক/সাবধান/হুশিয়ার হও যা (সতর্কবাণী উপেক্ষাকারী/অবহেলাকারী/অস্বীকারকারী/গোপনকারী) কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।
১৩২. আর তোমরা আল্লাহ ও (তাঁর) রসূলের (ওপর নাজিল হওয়া কুরআনের আদেশ নিষেধের) অনুগত হও, যেন তোমাদের উপরে মেহেরবানি করা যায়।
১৩৩. আর তোমরা দ্রুত/তীব্র গতিতে এগিয়ে চল তোমাদের রবের মাগফিরাত ও জান্নাতের দিকে, যা আসমানসমূহ ও যমীনে বিদ্যমান/উপস্থিত, যা মুত্তাকীদের জন্য হিসেব করে গুণে রাখা হয়েছে।
১৩৪. যারা সুসময়ে ও দুঃসময়ে/সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে এবং যারা রাগ/ক্রোধ দমন/হজম করে ও মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল। আর আল্লাহ সৎকর্মশীল/মুহ্সিনদেরকে ভালবাসেন।
১৩৫. আর যারা কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা নিজেদের/নফসের প্রতি জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের গুনাহ/পাপের জন্য ক্ষমা চায়। আর আল্লাহ ছাড়া পাপ ক্ষমা করবে কে ? আর তারা জেনেশুনে নিজেদের নিজেদের (পাপ) কাজের পুনরাবৃত্তি করে না/বার বার করে না/অটল থাকে না।
১৩৬. এরাই তারা যাদের প্রতিদান হল তাদেররবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত/ক্ষমা ও জান্নাতসমূহ যার প্রবাহিত রয়েছে ঝর্ণাধারা/নহর সমূহ। সেখানে তারা চিরকাল বাস করবে। আর পরিশ্রমী/কর্মী/আমলকারীদের প্রতিদান কতই না সুন্দর/চমৎকার!
১৩৭. নিশ্চয়ই তোমাদের আগেও অনেক সুন্নাত তথা রীতিনীতির মতবাদ বিলীন হয়েছে। তোমরা জমিনে ভ্রমণ করে দেখ, মিথ্যাবাদীদের পরিণতি কেমন হয়েছে !
১৩৮. এটা (কোরআন) মানুষের জন্য (স্পষ্ট/পরিষ্কার) বয়ান/বর্ণনা এবং মোত্তাকীদের জন্য হেদায়াত ও উপদেশ/ওয়াজ নাসীহাত।
১৩৯. তোমরা হীনবল হয়ো না এবং চিন্তিত ও হয়ো না; তোমরাই মর্যাদাসম্পন্ন হবে/প্রাধান্য বিস্তার করবে যদি তোমরা মুমিন হও।
১৪০. যদি তোমাদের কোন আঘাত লাগে তাহলে (মনে করবে) অনুরূপ আঘাত তো অন্যদেরও লেগেছে। আর এই দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে অদলবদল করি; যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যককে স্বাক্ষী/ শহীদরূপে গ্রহণ করতে পারেন। আর আল্লাহ জালেমদেরকে ভালবাসেন না।
১৪১. ঈমানদারদেরকে আল্লাহ ছেঁটে বাছাই করতে চান, আর কাফিরদেরকে নিশ্চিহ্ন করতে চান।
১৪২. তোমরা কি মনে কর যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে ? অথচ আল্লাহ এখনো জানেননি তোমাদের মধ্যে কারা নিরস্ত্র লড়াই/জিহাদ করেছে আর কারা ধৈর্যশীল। [২:২১৪]
১৪৩. আর তোমরা তো মৃত্যু আসার আগেই মরতে চাও; সুতরাং, এখন তোমরা তাকিয়ে তাকিয়ে সে মৃত্যু স্বচক্ষে দেখলে।
১৪৪. আর মুহাম্মদ একজন রাসূল মাত্র; তাঁর পূর্বে আরও অনেক রসূল গত হয়েছে/চলে গিয়েছে; যদি সে মারা যায় অথবা তাকে হত্যা করা হয়, তবে কি তোমরা (কুরআন ছেড়ে) উল্টোদিকে ফিরে যাবে ? এবং যে ব্যক্তি উল্টাদিকে ফিরে দাঁড়ায় সে কখনো আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারে না । আর যারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, এমন বান্দাদেরকে আল্লাহ্ খুব শীঘ্রই পুরস্কার দেবেন।
১৪৫. আল্লাহর হুকুম/অনুমতি ছাড়া কোনও প্রাণীর মৃত্যু হতে পারে না, কারণ আয়ুর মেয়াদ নির্দিষ্ট করে লিখে দেয়া হয়েছে। আর যে কেউ দুনিয়ার সাওয়াব/সুবিধা/পুরস্কার চায়, আমি তাকে দুনিয়ার অংশ দিয়ে থাকি। যে ব্যক্তি আখিরাতের সাওয়াব/প্রতিদান চায়, আমি তাকে আখিরাতের অংশ দিবো। আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী বান্দাদেরকে অতি শীঘ্রই আমি প্রতিফল/পুরস্কার দান করব।
১৪৬. আর বহু নবী ছিল, যাদের সাথে থেকে অনেক আল্লাহওয়ালা/রাব্বানী সঙ্গী সাথীরা যুদ্ধ করেছে তাইতো তারা নিরাশ হয়নি, আল্লাহর (কিতাবের) পথে বিপদ এসেছে, তাতে তারা দুর্বলও হয় নি, তারা দমেও যায়নি। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদেরকে খুবই ভালবাসেন।
১৪৭. এছাড়া কোনো কথা তাদের মুখে থাকে না, তারা শুধু এই ফরিয়াদ করে, হে আমাদের রব ! আপনি আমাদের পাপ মোচন করুন, আমাদের কাজে যেসব বাড়াবাড়ি হয়েছে, তা মাফ করুন। আপনি আমাদের ভিত্তি শক্ত/মজবুত রাখুন, আর (আয়াত‑উপেক্ষাকারী/প্রত্যাখ্যানকারী/গোপনকারী) কাফির কওমের বিরূদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।
১৪৮. সুতরাং, আল্লাহ্ তাদেরকে দুনিয়ার বুকে সাওয়াব/সুফল/প্রতিদান দান করবেন, আর আখিরাতে আরো সুন্দর/চমৎকার/উত্তম সাওয়াব/পুরস্কার দিবেন। আর আল্লাহ সৎকর্মশীল/মুহসিনদেরকে ভালবাসেন।
১৪৯. হে (সতর্কবাণীতে মনোযোগী) ঈমানদারগণ ! তোমরা যদি (আয়াত উপেক্ষাকারী/প্রত্যাখ্যানকারী/গোপনকারী) কাফেরদের কথামতো চল/অনুগত হও তাহলে তারা তোমাদেরকে বিপরীত দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে, তখন তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।
১৫০. বরং আল্লাহ তোমাদের মাওলা/অভিভাবক এবং তিনি দারুন/সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী।
১৫১. শীঘ্রই আমি কাফিরদের অন্তরে/ হৃদয়ে ভয়/ আতঙ্ক ঢেলে দেব। এ কারণে যে তারা আল্লাহর সাথে শরীক করেছে, যে ব্যাপারে তিনি কোন প্রমাণ নাযিল করেননি। আর তাদের আশ্রয়স্থল হল আগুন এবং যালিমদের ঠিকানা কতই না নিকৃষ্ট!
১৫২. আর আল্লাহ তোমাদের কাছে তাঁর ওয়াদা সত্যে পরিণত করেন, যখন তোমরা তাদেরকে হত্যা করছিলে তাঁর অনুমতিক্রমে। অবশেষে যখন তোমরা দুর্বল হয়ে গেলে এবং নির্দেশ সম্পর্কে বিবাদ করলে আর তোমরা অবাধ্য হলে তোমরা যা ভালবাসতে তা তোমাদেরকে দেখানোর পর। তোমাদের মধ্যে কেউ দুনিয়া চায় আর কেউ চায় আখিরাত। তারপর আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের থেকে ফিরিয়ে দিলেন যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন। আর অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আল্লাহ মুমিনদের উপর অনুগ্রহশীল।
১৫৩. যখন তোমরা আরোহণ করে যাচ্ছিলে এবং কারও দিকে ফিরেও দেখছিলেনা; অথচ তোমাদের পেছনে রসূল তোমাদেরকে ডাকছিলেন। ফলে তিনি (আল্লাহ) তোমাদেরকে কষ্টের ওপর কষ্ট দিয়েছিলেন; যাতে তোমাদের যা হাতছাড়া হয়েছে এবং যে বিপদ তোমাদের ওপর এসেছে তার জন্য দুঃখ না কর। আর তোমরা যা করো আল্লাহ তার খবর রাখেন।
১৫৪. তারপর তিনি তোমাদের উপর দুশ্চিন্তার পর নাযিল করলেন তন্দ্রারূপে প্রশান্তি, যা তোমাদের একদলকে আচ্ছন্ন করেছিল। আর অপরদল নিজরাই নিজদেরকে চিন্তাগ্রস্ত করেছিল। তারা আল্লাহ সম্পর্কে জাহিলী ধারণার ন্যায় অসত্য ধারণা পোষণ করছিল। তারা বলছিল, এ বিষয়ে কি আমাদের কোন অধিকার নেই ? বল,‘সব বিষয় আল্লাহ্রই ইখতিয়ারে। তারা তাদের মনে কিছু একটা লুকাচ্ছিল যা তোমার কাছে প্রকাশ করছিল না। তারা বলছিল, “বিষয়টিতে যদি আমাদের কিছু করার থাকত তাহলে এখানে আমরা (এভাবে) নিহত হতাম না। তারা বলে, ‘যদি মতামত প্রদানের অধিকার আমাদের কিছুমাত্রও থাকত, তাহলে আমরা এখানে নিহত হতাম না’। বল, ‘যদি তোমরা তোমাদের ঘরেও থাকতে, তবুও যাদের ভাগ্যে মৃত্যু লেখা ছিল, তারা তাদের এ মৃত্যুশয্যার পানে বের হয়ে পড়ত’। আসলে আল্লাহ চেয়েছেন তোমাদের মনে যা আছে তা পরীক্ষা করতে এবং তোমাদের অন্তরে যা আছে তা পরিশোধন করতে। আল্লাহ (সকলের) মনের কথা ভালভাবে জানেন।
১৫৫. যেদিন দু’দল পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল সেদিন তোমাদের মধ্য থেকে যারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন/পলায়নপর হয়েছিল, তাদের কিছু কৃতকর্মের ফলে শয়তানই তাদের পদস্খলন ঘটিয়েছিল। অবশ্য আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাপরায়ণ ও পরম সহনশীল।
১৫৬. হে ঈমানদারগণ তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা কুফরী করে ! এবং তাদের ভাইয়েরা যখন দেশে- বিদেশে সফর করে কিংবা যুদ্ধে যায় (অতঃপর নিহত হয়) তখন বলে, “ওরা যদি আমাদের কাছে থাকত তাহলে মরত না কিংবা নিহত হত না; ”ফলে আল্লাহ এটাকেই তাদের মনে দুঃখ ও চিন্তা সৃষ্টির কারণে পরিণত করেন; প্রকৃতপক্ষে আল্লাহই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান/বাঁচান এবং মারেন।, আর তোমরা যা করো আল্লাহ তা খুব ভালোভাবেই দেখছেন।
১৫৭. আর তোমাদেরকে যদি আল্লাহর রাস্তায় হত্যা করা হয় অথবা তোমরা মরে যাও (যা-ই হোক না কেন), তারা যা (পার্থিব ধন-সম্পদ) জমা করে তার চেয়ে আল্লাহর ক্ষমা ও রহমাত বেশী ভালো।
১৫৮. আর যদি তোমরা মৃত্যুবরণ কর অথবা তোমাদেরকে হত্যা করা হয় (যা-ই হোক না কেন), তোমাদেরকে অবশ্যই আল্লাহর কাছেই একত্রিত করা হবে।
১৫৯. অতঃপর আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতের কারণে তুমি তাদের জন্য নম্র হয়েছিলে। আর যদি তুমি কঠোর স্বভাবের/রূঢ় মেজাজ, কঠিন হৃদয়সম্পন্ন হতে, তবে তারা তোমার আশপাশ থেকে সরে পড়ত। সুতরাং তাদেরকে মাফ করে দাও, এবং তাদের জন্য মাগফেরাত/ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরার্মশ কর। অতঃপর আর যখন (কিছু করার জন্য) চূড়ান্ত সঙ্কল্প/সিদ্ধান্ত নেবে তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ (তাঁর ওপর) ভরসাকারীদের ভালবাসেন।
১৬০. যদি আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেন, তবে তোমাদের উপর কেউই বিজয়ী হতে পারবে না । আর তিনি যদি তোমাদেরকে পরিত্যাগ করেন তাহলে তিনি ছাড়া এমন কে আছে যে তোমাদেরকে সাহায্য করতে পারে ? সুতরাং মু’মিনদের আল্লাহর ওপরই ভরসা করা উচিত।
১৬১. আর কোন নবীর জন্য উচিত নয় যে, সে খিয়ানত করবে। আর যে খিয়ানত করবে, কিয়ামতের দিনে উপস্থিত হবে তা নিয়ে যা সে খিয়ানত করেছে । অতঃপর প্রত্যেক ব্যক্তিকে পুরোপুরি দেয়া হবে যা সে উপার্জন করেছে । কারও প্রতি কোন প্রকার যুলম করা হবে না।
১৬২. আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুসরণকারী কি সেই ব্যক্তির মত যে আল্লাহর ক্রোধ নিয়ে ফিরে আসে ? আর যার আশ্রয়স্থল হবে জাহান্নাম, আর কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল !
১৬৩. তারা আল্লাহর নিকট বিভিন্ন স্তরের (মর্যাদাসম্পন্ন)। আর তারা যা কিছুই করছে,আল্লাহ সেসব ভালভাবে দেখেন।
১৬৪. অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের উপর অনুগ্রহ/ধন্য করেছেন, যখন তিনি তাদের নিজেদের থেকেই তাদের মধ্যে এমন একজন রসূল পাঠিয়েছেন যিনি তাদেরকে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করে শোনান, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন আর তাদেরকে কিতাব ও হিকমাত শিক্ষা দেয়। যদিও তারা আগে সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতা/বিভ্রান্তির মধ্যে ছিল।
১৬৫. কি ব্যাপার ! যখন তোমাদের ওপর একটি বিপর্যয় এল— যার দ্বিগুণ বিপর্যয় ইতিপূর্বে তোমরা (তোমাদের প্রতিপক্ষের জন্য) ঘটিয়েছিলে— তখন তোমরা বললে, “এটা কোথা থেকে এল?” (তাদেরকে) বল, “এটা তোমাদের নিজেদের কাছ থেকেই এসেছে (তোমাদের কৃতকর্মের ফলেই এসেছে)।” নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
১৬৬. আর যেদিন দু’দল পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল, সেদিন তোমাদের উপর যে বিপর্যয় ঘটেছিল তা আল্লাহ্রই হুকুমে/অনুমতিক্রমে; এর উদ্দেশ্য ছিল (প্রকৃত) মু’মিনদেরকে জেনে নেয়া।
১৬৭. আর যাতে তিনি জেনে নেন মুনাফিকদেরকে। এই মোনাফেকদেরকে বলা হয়েছিল, “এসো, আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো অথবা (অন্তত) প্রতিরোধ কর। ”তারা বলেছিল, “আমরা যুদ্ধ হবে জানলে অবশ্যই তোমাদের অনুসরণ করতাম।” সেদিন তারা ঈমানের চেয়ে কুফরির বেশি কাছাকাছি ছিল। তারা মুখে সে কথাই বলত যা তাদের অন্তরে ছিল না। যা কিছু তারা গোপন করে আল্লাহ তা ভাল করেই জানেন।
১৬৮. এরা সেইসব লোক যারা ঘরে বসে থেকে তাদের (নিহত) ভাইদের সম্পর্কে বলেছিল, “ওরা আমাদের কথা শুনলে নিহত হত না।” (তাদেরকে) বল, “যদি তোমাদের কথা সত্যই হয় তাহলে (পারলে) তোমরা নিজেদের মৃত্যু ঠেকিয়ে রেখো।”
১৬৯. যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে মৃতের হিসাবে ধরো না। বস্তুত তারা তাদের রবের কাছে সম্মানিত ও জীবিকাপ্রাপ্ত। [ আল্লাহ ওয়ালাদের মৃত্যুর স্বাদ কত মধুর= ১৬:২৮-৩২] [২:১৫৪]
১৭০. আল্লাহ তাদেরকে যে সম্মান/মর্যাদা দান করেছেন তাতে তারা আনন্দিত; তারা তাদের জন্যও আনন্দ প্রকাশ করে যারা তাদের পেছন থেকে এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি ; তাদের কোন ভয় ও দুশ্চিন্তা নেই জেনে তারা আনন্দিত।
১৭১. তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে নিআমত ও মর্যাদা লাভে খুশি/আনন্দিত হয়। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না।
১৭২. যারা আহত হওয়ার পরও আল্লাহ ও রসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছে তাদের মধ্যে যারা সৎকাজ করেছে ও সাবধানতা/সতর্কতা অবলম্বন করেছে তাদের জন্য রয়েছে মহান প্রতিদান/মহাপুরস্কার।
১৭৩. এদেরকে লোকেরা বলেছিল, তোমাদের বিরুদ্ধে লোক জড়ো হয়েছে, কাজেই তোমরা তাদেরকে ভয় কর; কিন্তু এ কথা তাদের ঈমানকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং তারা বলেছিল, ‘আল্লাহ্ই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কত উত্তম কর্মবিধায়ক’ ।
১৭৪. তারপর তারা আল্লাহ্র নেয়ামত ও মর্যাদা সহ ফিরে এসেছিল, কোন অমঙ্গল/অনিষ্ট তাদেরকে স্পর্শ করেনি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পেছনেই তারা একটানা লেগে ছিলো এবং আল্লাহ সুমহান মর্যাদাবান।
১৭৫. এ লোকেরা হচ্ছে শয়ত্বান; তোমাদেরকে তার বন্ধু/অভিভাবকদের ভয় দেখায়, কিন্তু যদি তোমরা মু’মিন হও তবে তাদেরকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় কর।
১৭৬. যারা কুফরীতে দ্রুত ধাবিত হয় তাদের আচরণ যেন তোমাকে দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত না করে। তারা কখনো আল্লাহ্র কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ চান যে, তাদের জন্য আখিরাতে কোন অংশ রাখবেন না। তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।
১৭৭. নিশ্চয়ই যারা ঈমানের পরিবর্তে কুফরী ক্রয় করেছে, তারা কখনোই আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি/ বেদনাদায়ক আযাব।
১৭৮. কাফেরগণ যেন কিছুতেই মনে না করে যে, তাদেরকে আমি যে অবকাশ দিয়েছি তা তাদের জন্য মঙ্গলজনক; আমি তাদেরকে শুধু এজন্য অবকাশ দেই যে, যেন তাদের পাপের পরিমাণ বেড়ে যায়, আর তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।
১৭৯. আল্লাহ এমন নন যে, তিনি মুমিনদেরকে (এমন অবস্থায়) ছেড়ে দেবেন যার উপর তোমরা আছ। যতক্ষণ না তিনি পৃথক করবেন নিকৃষ্ট থেকে উৎকৃষ্টকে। আর আল্লাহ এমন নন যে, তিনি তোমাদেরকে গায়েব সম্পর্কে জানাবেন। তবে আল্লাহ তাঁর রাসূলদের মধ্য থেকে যাকে চান বেছে নেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আন। আর যদি তোমরা ঈমান আন এবং সতর্কতা অবলম্বন কর তবে তোমাদের জন্য রয়েছে মহাপ্রতিদান/বিরাট পুরস্কার।
১৮০. আল্লাহর দেওয়া সম্পদ নিয়ে যারা কৃপণতা করে তারা যেন মনে না করে যে এটা তাদের জন্য কল্যাণকর, বরং এটা তাদের জন্য ক্ষতিকর/অকল্যাণকর; কেয়ামতের দিন তাদের কার্পণ্যের ধন দ্বারা তাদের গলায় বেড়ী পরানো হবে।আর আসমান ও জমিনের উত্তরাধিকার আল্লাহরই। তোমরা যা আমল/কর্ম কর সে ব্যাপারে আল্লাহ পূর্ণ খবর রাখেন।
১৮১. নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের কথা শুনেছেন, যারা বলেছে, ‘ আল্লাহ ফকির আর আমরা ধনী’। তারা যা বলেছে এবং তারা যে নবীদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে আমি তা লিখে রাখব আর (তাদেরকে) বলব, “তোমরা আগুনে পোড়ার কষ্ট/দহন যন্ত্রণা ভোগ কর।”
১৮২. এ হচ্ছে তাই, যা তোমরা নিজ হাতে আগাম পাঠিয়েছে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের উপরকোন প্রকার জুলুম করেন না।
১৮৩. যারা বলে থাকে, অবশ্যই আল্লাহ আমাদের থেকে অঙ্গীকার নিয়েছেন যে, আমরা যেন কোন রাসূলের প্রতি ঈমান না আনি যতক্ষণ পর্যন্ত সে আমাদের কাছে এমন কুরবানী উপস্থিত না করবে যা আগুন খেয়ে ফেলবে। বল, ‘আমার পূর্বে বহু রসূল বহু প্রমাণসহ তোমাদের নিকট এসেছিল এবং তোমাদের কথিত সেই মু’জিযা নিয়েও (এসেছিল)। যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তাহলে কেন তোমরা তাদেরকে হত্যা করেছিলে ?’
১৮৪. অতএব যদি তারা তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে, তবে তোমার পূর্বে রাসূলগণকে মিথ্যাবাদী বলা হয়েছিল। তারা স্পষ্ট প্রমাণসমূহ, যাবুর/গ্রন্থ ও আলোকময়/নুরানী কিতাব সাথে নিয়ে এসেছিল।
১৮৫. প্রতিটি নফসই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর অবশ্যই কেয়ামতের দিন তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে দেয়া হবে। সুতরাং যাকে (জাহান্নামের) আগুন থেকে দূরে সরিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফলকাম। আর দুনিয়ার জীবন তো শুধু ধোঁকা/ছলনা/ প্রতারণার বস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়।
১৮৬. অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করা হবে তোমাদের ধন-সম্পদ ও জান/জীবন/নফসসমূহের মধ্য দিয়ে। আর অবশ্যই তোমরা শুনবে তোমাদের পূর্বে যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের পক্ষ থেকে এবং মুশরিকদের পক্ষ থেকে অনেক কষ্টদায়ক/নিন্দা অপমানের কথা। যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর এবং সাবধানতা/সতর্কতা অবলম্বন কর তবে নিশ্চয়ই তা হবে চূড়ান্ত দুঃসাহসিক কাজ ।
১৮৭. যখন আল্লাহ কিতাবধারীদের কাছ থেকে ওয়াদা/প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন: ‘অবশ্যই তোমরা এই কিতাব মানুষের কাছে পষ্কিার/সুস্পষ্টভাবে বয়ান করবে এবং তা গোপন করবে না’। কিন্তু তারা সে ওয়াদা তাদের পেছনে ছুঁড়ে মেরেছিল (ভঙ্গ করেছিল) ও তুচ্ছ মূল্যে (ওয়াজ,মাহফিল ইজমা ফতুয়ায়) বিক্রি করেছিল। অতএব তারা যা ক্রয় করে (নরক) তা কতই না নিকৃষ্ট!
১৮৮. যারা নিজেরা যা করেছে (লাহুয়াল হাদীস প্রচার) তাতে আনন্দ প্রকাশ করে এবং নিজেরা যা করেনি (পরিপূর্ণ আহসানাল হাদীস প্রচার) এমন কাজের জন্য প্রশংসিত হতে ভালবাসে, তারা শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে – এরূপ তুমি কখনো মনে করো না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক/মর্মন্তুদ শাস্তি।
১৮৯. আসমান ও আর্দের রাজত্ব আল্লাহর। আর আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
১৯০. নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও আর্দের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের পরিবর্তনে আয়াত/মোজেজা রয়েছে জ্ঞানী/বুদ্ধিমান লোকদের জন্য।
১৯১. যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে আল্লাহ্র জিকির/মূল শিক্ষা/থিম গ্রহন করে এবং আসমানসমূহ ও আর্দের সৃষ্টি সম্বন্ধে চিন্তা করে, আর বলে, ‘হে আমাদের রব! আপনি এগুলো অনর্থক সৃষ্টি করেননি,আপনি অত্যন্ত মহিমান্বিত/পবিত্র, অতএব আপনি আমাদেরকে আগুনের শাস্তি হতে রক্ষা করুন।’
১৯২. ‘হে আমাদের রব, নিশ্চয়ই তুমি যাকে আগুনে প্রবেশ করাবে, তাকে তো একেবারেই লাঞ্ছিত করলে। আর যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই’।
১৯৩. ‘হে আমাদের রব, নিশ্চয়ই আমরা শুনেছিলাম একজন আহবানকারীকে, যে ঈমানের দিকে আহবান করে যে, ‘তোমরা তোমাদের রবের প্রতি ঈমান আন’। তাই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের রব আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং মুছে দিন আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি, এবং নেককার/পুণ্যবান/মহৎ লোকদের সাথে শামিল করে আমাদের মৃত্যু নসিব করুন।”
১৯৪. ‘হে আমাদের রব! আপনার রাসূলগণের মাধ্যমে আমাদেরকে যা দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা আমাদেরকে দান করুন এবং কেয়ামতের দিন আমাদেরকে লাঞ্ছিত/অপমানিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি ওয়াদার খেলাফ করেন না।’
১৯৫. অতঃপর তাদের রব তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে বললেন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মধ্যে আমলকারী কোন নর বা নারীর আমল বিনষ্ট করি না (বিফলে যেতে দেই না) তোমাদের একে অপরের অংশ। সুতরাং যারা হিজরত করেছে, নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত/উৎখাত হয়েছে এবং আমার পথে নির্যাতিত হয়েছে , যুদ্ধ করেছে ও নিহত হয়েছে আর যারা যুদ্ধ করেছে এবং নিহত হয়েছে, আমি অবশ্যই তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ বিলুপ্ত করে দেব/পাপগুলো (আমলনামা থেকে) মুছে দেব এবং তাদেরকে প্রবেশ করাবো জান্নাত সমূহে, যাতে প্রবাহিত হচ্ছে নহর/ঝর্ণাধারা। এটা আল্লাহ্র কাছ থেকে পুরস্কার/সাওয়াব; আর উত্তম পুরস্কার তো আল্লাহ্র কাছেই রয়েছে।
১৯৬. শহরে-নগরে (আয়াত উপেক্ষা/গোপনকারী) কাফিরদের চলাফেরা যেন তোমাকে কোনো রকম ধোঁকা/বিভ্রান্তিতে না ফেলে।
১৯৭. তাদের এই সুযোগ সুবিধা মাত্র অল্প কয়েক দিনের জন্য, এরপর তাদের (শেষ) ঠিকানা হবে জাহান্নাম, আর তা অতি নিকৃষ্ট আবাসস্থল ।
১৯৮. কিন্তু যারা তাদের রব সম্পর্কে হুশিয়ার/সাবধান, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যাতে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ/ঝর্ণাধারা, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে আতিথেয়তা/ মেহমানদারী। আর আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা পুণ্যবান/মহৎ/সৎকর্মপরায়ণদের জন্য অতি উত্তম।
১৯৯. আর নিশ্চয়ই আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা আল্লাহ্র প্রতি বিনয়াবনত হয়ে তাঁর প্রতি এবং তিনি যা তোমাদের ও তাদের প্রতি নাযিল করেছেন তাতে ঈমান আনে। তারা আল্লাহ্র আয়াতসমূহ তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে না। তাদের জন্য রয়েছে তাদের রবের নিকট পুরস্কার। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
২০০. হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ কর, ধৈর্যে প্রতিযোগিতা কর এবং পারস্পরিক বন্ধন মজবুত কর/প্রস্তুত থাক/মিলেমিশে থাকো, আর আল্লাহ্ সম্পর্কে সাবধানতা অবলম্বন কর যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।